বাংলাদেশে ই-কমার্স এবং ব্যাংকিং খাত


অর্থনীতি এবং রাজনীতি এই দুটো জিনিস একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জরিত। রাজনীতি কখনও একা একা হয় না। একটি সমষ্টিগত মানুষ নিয়ে রাজনীতি হয়, অর্থনীতিও একই পথ অবলম্বন করে। আপনি রাজনীতি কেন করেন? সমষ্টিগত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করা রাজনীতির একটা প্রধান লক্ষ্য। একটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল হলে সেই দেশের রাজনৈতিক অবস্থাও তুলনামূলক অনেক ভালর দিকে অগ্রসর হয়, তাই রাজনৈতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যও অর্থনীতি নিজেই একটি বড় শক্তি।
 
গত ৪-৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে মোটা দাগে দুটো বড় কেলেঙ্কারি হয়ে গিয়েছে। একটি হোল ই-কমার্স আরেকটি হোল ব্যাংক খাত, যা অর্থনীতি এবং রাজনীতিতে দারুন ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এই লেখা রাজনৈতিক না তাই রাজনীতি নিয়ে বলছি না। অর্থনীতি প্রধান লক্ষ্য। 
 
মোটা দাগের কেলেঙ্কারিতে আমাদের আসলে কি ক্ষতি হোল? বাংলাদেশের ই কমার্স সেক্টরে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ আমরা হারালাম তার সাথে ব্যাংকিং সেক্টরেও আমরা বিদেশি বিনিয়োগ হারালাম। এই সব কিছু ছারিয়ে জাতিগত একটা বড় ক্ষতি আমাদের হয়েছে। লেখাটা পরুন আশা করি বোঝাতে পারব।
 
ব্যাংকিং দৃষ্টি কোন থেকে চিন্তা করলে প্রতিটা বিজনেস এর প্রান হোল মানি লেনদেন। লেনদেন আপনার যত দ্রুত এবং ভাল হবে আপনার বিজনেসও তত ভাল মনে করা হয়। অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমেই এটা দ্রুততার সাথে করা সম্ভব। ই কমার্স বিজনেস কেলেঙ্কারির মাধ্যমে আমাদের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটি হয়েছে তা হোল মানুষের মদ্ধে অনলাইন লেনদেনের যে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল সেটা নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে সকল ট্র্যাডিশনাল ই কমার্স বিজনেস কিছুটা কমে গিয়েছে কিন্তু মানুষের মধ্যে যে অনলাইন লেনদেনের অভ্যাস গড়ে উঠেছে তা দিন দিন বেড়েছে কিন্তু ই কমার্স কেলেঙ্কারির পর থেকে বাংলাদেশে সেটাও কমেছে। আমেরিকায় বর্তমানে ৮২% লোক অনলাইনে লেনদেন করে থাকে যা ২-৩ বছর আগেও ৫২% ছিল। কিন্তু আমেরিকাতেও বর্তমানে ট্র্যাডিশনাল ই-কমার্স বিজনেস এর অবস্থা খুব বেশি ভাল না। সাধারন আমেরিকান এবং ব্রিটিশরা আমাজন কে ডাকাত বলেও অভিহিত করে থাকে। সাধারন মানুষ অনলাইন থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য হয়তো কিনছে না কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনের সকল লেনদেন তারা এখন অনলাইনে করছে যেমন বাসের ভাড়া, ডাক্তারে ফি, খাবারের বিল, বাসা ভাড়া এমনকি বাজারে গিয়ে মুদির দোকানের বিল অনলাইন করছে। এই অভ্যাস কে ব্যাবহার করে নিত্য নতুন ই কমার্স বিজনেস চালু হচ্ছে যা শুধু মাত্র ফিজিকাল কিছু পণ্য বিক্রির মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নাই। এখানে কথা হোল আমেরিকার সাথে কেন তুলনা করছি, তুলনা একেবারেই ঠিক না কারন বাংলাদেশে ২৪-২৫% লোক ইন্টারনেট ব্যাবহার করে আর আমেরিকাতে করে ৯০-৯১% লোক। যদিও বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকার জনসংখ্যা প্রায় ১২ কোটি বেশি। কিন্তু আমরাইতো মাছ উৎপাদনে এবং গার্মেন্টস শিল্পে বিশ্বে এখন প্রথম চারটি দেশের মধ্যে একটি। এখন প্রশ্ন হোল এই সব দেখার দায়িত্ব কি ব্যাংকের?
 
বর্তমানে ৭-৮ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অনেক গুলা বড় ধরনের ব্যাংক কেলেঙ্কারি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এস আলম গ্রুপ এর কেলেঙ্কারি সবাইকে ছারিয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে জানা গিয়েছে শুধুমাত্র ইসলামি ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে যদিও তাদের ২১৯ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অধিকার ছিল। যেহেতু অডিট করে বিষয়টি বের করা গিয়েছে সুতরাং ইসলামি ব্যাংক কোথায় কি কথা বার্তা বলতে হবে সেটাও নিশ্চয়ই আগেই ঠিক করে রেখেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হোল এত টাকা ঋণ দিয়ে ব্যাংকের কি উপকার হোল। দিন দিন তো আমরা দেখছি ব্যাংকের ঋণ দেওয়া শুধু বৃদ্ধিই পাচ্ছে কিন্তু রিকভারি হার বৃদ্ধি পাচ্ছে না। আমরা আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করলাম বাংলাদেশ ব্যাংক হিসেব কষতে বেশ পটু কিন্তু সমাধানে না। তারা খুব দ্রুতাতার সাথে সব কেলেঙ্কারি বের করে ফেলে কিন্তু কোন সমাধান তারা জানে না। রিজার্ভ থেকে ডলার চুরি হোল, ব্যাংক কেলেঙ্কারি হোল কত গুলো, এগুলা সব তারা খুব সুন্দর অডিট করে বের করে ফেলেছে কিন্তু কোন সমাধান আজ পর্যন্ত বের করতে পারে নাই।
 
আজকের দিনেও আমরা যদি ই কমার্স বিজনেসকে নষ্ট না করতাম তাহলে আমাদের এমন একটি শক্তিশালী জনগোষ্ঠী তৈরি হত যাদের অভ্যাস টাই থাকতো শুধুমাত্র অনলাইন লেনদেন। তাহলে আমাদের ব্যাংকিং সেক্টরও হত খুবই শক্তিশালী। এমনকি, আজকে হয়তো আমাদের মাঝে এমন একটি ব্যাংকও থাকতো যাদের ব্যাংকিং সেবার যাবতীয় সকল কিছুই হতো অনলাইন ভিত্তিক।
 
আমার এক বন্ধুর ফেসবুক পেজে একটি কৌতুক পরেছিলাম সেটা শেয়ার করছি।
 
“ দুই অর্থনীতিবিদ, একজন অভিজ্ঞ ও অন্যজন অনভিজ্ঞ। কোনো এক বিকেলে পথ ধরে হাঁটছিলেন। হাঁটতে হাঁটতে তাঁদের সামনে পড়লো একটা গোবরের স্তুপ। অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ বললেন, তুমি যদি স্তুপে থাকা গোবর খেতে পারো, তাহলে তোমাকে আমি বিশ হাজার টাকা দিবো। অনভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ চিন্তা করে দেখলেন, গোবর খেয়ে যদি বিশ হাজার টাকা পাওয়া যায়, তো এই দুর্মূল্যের বাজারে তাই বা কম কিসের!
অনেক লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে শেষমেষ তিনি গোবর খেয়ে প্রতিশ্রুত অর্থ আদায় করে নিলেন।
কিছুদূর যেতেই আরেকটা গোবরের স্তুপ তাঁদের সামনে পড়লো। এবার অনভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ বললেন, আপনি যদি স্তুপে থাকা গোবর খেতে পারেন, তবে আপনাকেও আমি বিশ হাজার টাকা দিবো।
এই কথা শুনে অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ভাবলেন, কোনো দিনতো বাজিতে হারিনি, কিছুক্ষণ আগে হেরে গিয়ে বিশ হাজার খোয়ালাম। বেইজ্জতের ব্যাপার! নাহ্, আমাকে ঐ অর্থ ফেরত আনতেই হবে। অনেক হিসাব করে তিনিও স্তুপে থাকা গোবর খেয়ে বিশ হাজার ফিরে পেলেন।
চলার পথে অনভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ আক্ষেপের সুরে বলছেন, খামোখাই কিন্তু আমরা গোবর খেলাম। আমাদের দু’জনের অর্থের অবস্থা আগের মতোই, কোনও উন্নতিই হয়নি, একদম অপরিবর্তনীয়।
অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ একটা বিজ্ঞের হাসি দিয়ে জানান দিলেন, উন্নতি হয়নি মানে!? এরই মধ্যে আমাদের মাঝে ৪০ হাজার টাকার লেন-দেন হয়েছে।
 
অনলাইন ট্রেডিং সম্পর্কে জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে গিয়ে দেখতে পারেন।

 

600x300

Comments

Popular posts from this blog

ফরেক্স ট্রেডিং বিষয়ে AtoZ আলোচনা

জুন মাসে AUD/USD বুলিশ ট্রেন্ড: ইতিহাস, কারণ ও লাভবান হওয়ার উপায়

বিশ্বের সেরা মোবাইল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম

Contact Form

Name

Email *

Message *