ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ
ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ
“ডিজিটাল বাংলাদেশ” এই শব্দটার সাথে আমরা খুব ভাল ভাবেই পরিচিত। বুঝে না বুঝে সবাই এটা কোন না কোন সময় একবার হলেও ব্যবহার করেছি। যদি একেবারে সহজ বাংলায় বলা যায় তাহলে বাংলাদেশে মানুষের জীবন যাত্রার সর্বোত্তম আধুনিক ব্যবস্থার নামই হোল ডিজিটাল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ডিজিটাল হয়েছে কি হয় নাই এটা আমরা বুঝব কিভাবে। এটা আসলে অনেক গুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এটা পরিমাপের জন্য এখনও কোন একক তৈরি হয় নাই। তবে কিছু সাধারণ হিসেব করে এটা বের করা যেতে পারে। যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন, ইন্টারনেট, মোবাইল, কম্পিউটার/ল্যাপটপ এর ব্যাবহার ইত্যাদির শতকরা হার থেকে আমরা একটা ধারনা করতে পারি বাংলাদেশ কতটুক ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। ছোট একটি হিসাব করা যাক। বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় শতভাগ সফল যদিও জ্বালানি সঙ্কটের কারনে কিছু সমস্যা হচ্ছে কিন্তু এটা দীর্ঘ মেয়াদি কোন সমস্যা না। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হয়ে যাওয়ার পর আশা করা যায় বিদ্যুৎ সমস্যা থাকবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ৯০% এর ওপরে ধরা যায়। বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার, যা জনসংখ্যার ৯০% এর ওপরে বলা যায়। কম্পিউটার/ল্যাপটপ ব্যাবহার করে ১০% এর ওপরে। বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৩২% কিন্তু কাভারেজ আছে ৯২% এর বেশি। তারমানে খুব দ্রুততার সাথে ব্যবহারকারীর সংখ্যা। আরও বেড়ে যাবে। এই কয়েকটি বিষয়ের একটি গড় হার যদি আমরা বের করি তাহলে আমরা বলতে পারি বাংলাদেশ বর্তমানে ৬০% এর ওপরে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। কিছু বিষয়ের অপর নজর দিলে যা ৮০-৯০% হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। এটা খুবই সন্তুষ্ট জনক এবং সাথে সাথে বাংলাদেশের নাগরিকের জন্য একটি গর্বেরও বিষয়।
কয়েকদিন যাবৎ আমরা শুনতে পাচ্ছি স্মার্ট বাংলাদেশের কথা। এটা নতুন কোন শব্দ না। ডিজিটাল অনেক কিছুর সাথেই আমরা স্মার্ট শব্দটি ব্যাবহার করে থাকি। এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ঘরে বিদ্যুৎ আছে, আপনার কাছে একটি মোবাইল ফোন আছে, সাথে ইন্টারনেট। এখন আপনাকে এবং আপনি যাদের সাথে নানা ভাবে কানেক্টেড তাদের স্মার্ট হতে হবে তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। সেটা কিভাবে? কিছু উদাহরন দিচ্ছি।
আপনি সকালবেলা কাচা বাজারে গেলেন কিছু সবজি বিক্রি করতে। আপনার কাছথেকে একজন গ্রাহক ১০৭ টাকার সবজি কিনলেন। গ্রাহক আপনার দোকানের মধ্যে লাগিয়ে রাখা একটি QR কোড ব্যাবহার করে আপনাকে ১০৭ টাকা পরিশোধ করল যা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এ চলে গেল। আপনারা দুই জনই কিন্তু স্মার্ট হয়ে গেলেন কারন ৭ টাকার ভাংতির জন্য আপনাকে ৭ টাকা কম নিতে হোল না আবার যে কিনল তার কাছে ভাংতি না থাকার কারনে বেশি দিতে হোল না।
আপনি হয়তো কোন বিজনেস মিটিং অথবা কারও সাথে কোন কিছু নিয়ে কথা বলছেন। আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দরকার কিন্তু ঐ মুহূর্তে আপনি সেটা মনে করতে পারছেন না। কোন সমস্যা নাই। আপনার কাছে মোবাইল আছে ইন্টারনেট আছে। আপনি গুগল করুন। আপনারা কিন্তু স্মার্ট হয়ে গেলেন।
আপনি কোন কিছু বানাচ্ছিলেন। হাতের যেকোন একটি কাজ হতে পারে। হটাৎ ভুলে গেলেন কোন সমস্যা নাই। ইউটিউব আছে দেখে নিন। স্মার্ট হতে আপনার কোন সময়ই লাগলো না।
আপনার স্ত্রী আপনার সাথে রাগ করে আজকে রান্না করে নাই। কোন সমস্যা নাই। আপনি অনলাইনে খাবার অর্ডার করুন। আপনি এবং আপনার স্ত্রী একসাথে খেয়ে নিন। স্মার্ট ফ্যামিলি।
এই রকম আরও ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের উপর আমরা ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছি কিন্তু এটার % খুবই কম। তাই এখন আমাদের ভবিষ্যৎ টাই হোল ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশ করতে আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যেহেতু সফলতার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে তাই আমরা গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে খুব দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করি স্মার্ট বাংলাদেশ হয়তো সামনেই।
** চ্যালেঞ্জ কি আছে এবং স্মার্ট হতে নতুন নতুন কি বিষয়ের উপর কাজ করা যেতে পারে তা নিয়ে আরও লেখা লিখবো **
অনলাইন ট্রেডিং সম্পর্কে জানতে চাইলে নিচের লিঙ্কে গিয়ে দেখে নিতে পারেন।
Comments
Post a Comment